মূল বিষয়বস্তুতে যানThe Generation Today
 
The Generation Today
সর্বশেষবাংলাদেশসারা দেশরাজধানীআন্তর্জাতিকঅর্থনীতিশিক্ষা বোর্ডঅর্থনীতি প্রবাসী সম্পাদকীয়ফুটবলজেলামতামতএআইপ্রাথমিক ও মাধ্যমিকবেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ব্যাংক-বিমাসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়দরকারি তথ্যক্রিকেটপাকিস্তানআবেদন শুরু ও শেষকলেজআন্দোলনমাউশিবিজ্ঞপ্তিইউজিসিপ্রস্তুতি ও পরামর্শ
সর্বশেষ
বাংলাদেশ
সারা দেশ
The Generation Today
সর্বশেষবাংলাদেশসারা দেশরাজধানীআন্তর্জাতিকঅর্থনীতিশিক্ষা বোর্ডঅর্থনীতি প্রবাসী সম্পাদকীয়ফুটবল
The Generation Today
হোমপেজসর্বশেষরাজনীতিঅর্থনীতিআইন-আদালতবিনোদনলাইফস্টাইলমতামত
সর্বশেষ
রাজধানীজেলাসরকারঅপরাধ-শৃঙ্খলাআইন-আদালতদুর্ঘটনাকৃষি ও খাদ্যবিদ্যুৎ ও জ্বালানি
রাজনীতি
ভারতপাকিস্তানচীনমধ্যপ্রাচ্যএশিয়াইউরোপযুক্তরাষ্ট্রউত্তর আমেরিকালাতিন আমেরিকাআফ্রিকাঅন্যান্য
ব্যাংক-বিমাঅর্থনীতিশিল্পউদ্যোক্তাবিশ্ববাণিজ্যবাজেটবাজারঅন্যান্য
ফ্রিল্যান্সিংএআইগ্যাজেটবিজ্ঞানটিপসঅন্যান্য
ফুটবলক্রিকেটবিপিএলআইপিএলঅন্যান্য
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়মেডিকেলনার্সিং ও মিডওয়াইফারিপ্রকৌশল ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিটেক্সটাইল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাথমিক ও মাধ্যমিককলেজকারিগরিউপানুষ্ঠানিকইংরেজি মাধ্যম-ভার্সনঅন্যান্য
দরকারি তথ্যআবেদন শুরু ও শেষপরীক্ষার তারিখ ও আসনবিন্যাসপ্রস্তুতি ও পরামর্শমডেল টেস্টপ্রশ্ন সমাধানফলাফল
শিক্ষা বোর্ডইউজিসিমাউশিএনটিআরসিএএনসিটিবিপিএসসিনায়েমপ্রাথমিক ও গণশিক্ষাব্যানবেইসশিক্ষা মন্ত্রণালয়
খবরবিজ্ঞপ্তিপ্রস্তুতি ও পরামর্শপরীক্ষার সময়সূচি ও আসনবিন্যাসসাক্ষাৎকারচূড়ান্ত ফলাফল
খবরদেশিবিদেশিপ্রস্তুতি ও পরামর্শফলাফল
সারা দেশআন্দোলনখেলাআন্তর্জাতিকজীবনের গল্পবিজয়গাথাঐতিহ্যঐতিহাসিক স্থানসাক্ষাৎকারঅন্যান্য
সম্পাদকীয়মতামতসাক্ষাৎকারতারুণ্যসাফল্যঅ্যাকাডেমিক পরীক্ষাশিক্ষা আন্দোলননির্বাচনপরিবেশ ও জলবায়ুলাইফস্টাইলস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিনোদনসাহিত্য-সংস্কৃতিবইমেলাপ্রিয় বইউদ্ভাবন আবিষ্কারব্যক্তিত্বপুরস্কার-সম্মাননাভ্রমণ-পর্যটনধর্ম ও জীবনবিচিত্র/অফবিটffff
রাজনীতি

রাজশাহীর ৬ আসনে ভোটযুদ্ধ, নাগরিকদের দীর্ঘশ্বাস ও প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির সমীকরণ

ড

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫০

রাজশাহীর ৬ আসনে ভোটযুদ্ধ, নাগরিকদের দীর্ঘশ্বাস ও প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির সমীকরণ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরেন্দ্রভূমির কেন্দ্রবিন্দু রাজশাহী ছিল প্রচারণায় উত্তাল। তবে জমকালো প্রচারণার আড়ালে সাধারণ ভোটারদের মনে পুঞ্জীভূত হয়ে আছে বছরের পর বছর ধরে চলা অবহেলা আর বঞ্চনার ক্ষোভ। প্রতিটি আসনে সাধারণ মানুষের মৌলিক দাবিগুলো এবার প্রার্থীদের ইশতেহারের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এবার রাজশাহীর ৬টি আসনে সর্বমোট ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম। নিচে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এবং প্রার্থীদের বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হলো।

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৬৮,৭৮০ জন (পুরুষ: ২,৩৪,০৭৮; নারী: ২,৩৪,৬৯৯; হিজড়া: ৩)। এই আসনের তানোরের কৃষক মজিদুল ইসলাম বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে কৃষি কাজ করি, কিন্তু পানি আর সারের জন্য সবসময় আমাদের যুদ্ধ করতে হয়। বরেন্দ্রর এই খটখটে মাটিতে সেচ সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে আমরা কেবল ভোটের বস্তু হয়েই থাকবো। সারাবছর হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও ফসলের দাম পাই না, এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি দেবে কে?

শিক্ষক মশিউর রহমান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকের প্রকোপ বেশি। আমরা এমন প্রতিনিধি চাই যিনি শুধু রাস্তা করবেন না, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় মাদকের আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন আর বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ছাড়া এই অঞ্চলের মুক্তি নেই।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন তার নির্বাচনী বক্তব্যে বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের দুঃখ আমি নিজ চোখে দেখেছি। আমি নির্বাচিত হলে প্রতিটি কৃষকের হাতে সরাসরি ‘কৃষি কার্ড’ তুলে দেব যাতে সার, বীজ ও সেচ সুবিধা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেট ছাড়াই সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছায়। সীমান্ত অপরাধ ও মাদক চোরাচালান বন্ধ করে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় তানোর-গোদাগাড়ী উপহার দেওয়াই আমার জীবনের শেষ লক্ষ্য।

জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আমরা একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত হবে। প্রান্তিক মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমি নিরলস কাজ করব এবং আমার প্রথম কাজ হবে রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা। ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমরা কোনো আপস করব না।

গণঅধিকার পরিষদের মীর মো. শাহজাহান এবং এবি পার্টির আব্দুর রহমান মহসিনী উভয়েই তাদের বক্তব্যে নতুন ধারার রাজনীতির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা ও তারুণ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করার কঠোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে মোট ভোটার ৩,৬৯,৫৬৪ জন (পুরুষ: ১,৭৮,২৪৯; নারী: ১,৯১,৩০৭; হিজড়া: ৮)। সাহেব বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘রাজশাহী শহর সুন্দর হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাজারে অদৃশ্য চাঁদাবাজিতে আমরা অতিষ্ঠ। আমরা সিন্ডিকেটমুক্ত নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ চাই যেখানে ছোট ব্যবসায়ীদেরও সম্মান থাকবে। প্রতিটি পন্যের দামে আজ যে আগুন লেগেছে, তাতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।শিক্ষার্থী রাইসা ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহীতে পড়াশোনা শেষ করে কাজের কোনো জায়গা নেই। আমরা চাই প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিগুলো যেন নির্বাচনের পর কেবল কাগজে বা বিলবোর্ডেই সীমাবদ্ধ না থাকে, কর্মসংস্থানের বাস্তব কাজ দেখতে চাই।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু ঘোষণা করেন, ‘রাজশাহীকে একটি অত্যাধুনিক আইটি ও স্মার্ট শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তারেক রহমানের ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার সিংহভাগ বাস্তবায়ন করা হবে এই রেশম নগরীতে। ফ্যামিলি ও হেলথ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মায়ের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অধিকার তুলে দেওয়া হবে। অতীতে যেমন রাজশাহীকে শান্ত রেখেছি, ভবিষ্যতেও এখানে কোনো অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।

জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর তার বক্তব্যে বলেন, ‘মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়তে সৎ ও আল্লাহভীরু নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। আমি নির্বাচিত হলে বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষা ও হাইটেক পার্ককে শতভাগ কার্যকর করব এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করব। এবি পার্টির মু. সাঈদ নোমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি রাজশাহীর ইতিহাসের সবচেয়ে তরুণ প্রার্থী। আমি নির্বাচিত হলে টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতি উপড়ে ফেলে এমপির কাছে জনগণের সরাসরি জবাবদিহিতার এক বৈপ্লবিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলব।

নাগরিক ঐক্যের ডা. সামছুল আলম, লেবার পার্টির মেজবাউল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকমুক্ত ও স্বচ্ছ রাজশাহী গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে মোট ভোটার ৪,২৩,৭৩৮ জন (পুরুষ: ২,১০,৮৯৭; নারী: ২,১২,৮৩৫; হিজড়া: ৬)। শ্রমিক মিজানুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভোটের সময় নেতারা আমাদের আপন হয়, ভোট গেলে চেনে না। আমরা আমাদের এলাকার এমন মানুষ চাই যে আমাদের ঘামের দাম বুঝবে। রাস্তাঘাটের যে শোচনীয় অবস্থা, তাতে আমাদের মালামাল বহন করাই দায় হয়ে পড়েছে।‘ কৃষক খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘সবজি চাষ করে আমরা ন্যায্য দাম পাই না। মোহনপুরে একটা কোল্ড স্টোরেজ আমাদের জীবন বদলে দিতে পারতো, কিন্তু বছরের পর বছর শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনে আসছি।

এই আসনের একমাত্র নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম (ফুটবল প্রতীক) তার বক্তব্যে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এবং জীবনের মায়া ত্যাগ করে এই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। দেশবাসী জানেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কতটা কঠিন, তারপরও আমি আমার এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য জমি বন্ধক রেখে নির্বাচনের খরচ জোগাচ্ছি কেবল মানুষের ভালোবাসার টানে। সাধারণ মানুষ যদি নির্ভয়ে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেয়, তবে পবা-মোহনপুরের সেবায় আমি নিজের জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা করব না। আমি নারী ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হয়ে সংসদে কথা বলব।

বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন তার বক্তব্যে বলেন, ‘শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে এই অঞ্চলের কৃষি পণ্য সরাসরি বিদেশের বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা হবে এবং পবা-মোহনপুরকে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অভিশাপ থেকে চিরতরে মুক্ত করা হবে।

জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ তার বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন,দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় সরকার গঠন এবং এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করব। ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে মোট ভোটার ৩,১৯,৯০৯ জন (পুরুষ: ১,৬০,৭২০; নারী: ১,৫৯,১৮৫; হিজড়া: ৪)। ভোটার সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমরা আর ভয়ভীতির রাজনীতি চাই না। বাগমারার গায়ে যে সন্ত্রাসের তকমা লেগে আছে, তা মুছে ফেলে শান্তি আর স্বস্তি নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান চাওয়া।‘ অভিভাবক মজিদ আলী বলেন, ‘চাকরির নামে টাকা নেওয়া বন্ধ হোক। আমাদের ছেলেরা মেধা দিয়ে কাজ পাক, এটাই বড় প্রত্যাশা।‘ এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান তার নির্বাচনী বক্তব্যে বলেন, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি ভুলে বাগমারায় ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনাই আমার প্রধান কাজ। বিগত ১৫ বছরের জুলুম ও দখলের অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফপূর্ণ ও দুর্নীতিমুক্ত বাগমারা গড়ে তোলা হবে।‘ জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি পেশায় একজন চিকিৎসক হিসেবে সারা জীবন মানুষের পাশে ছিলাম। এখন সংসদ সদস্য হিসেবে বড় পরিসরে শোষণমুক্ত বাগমারা গড়া ও সাশ্রয়ী আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। আমি চাই না টাকার অভাবে বাগমারাতে কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যাক।‘ জাতীয় পার্টির ফজলুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের তাজুল ইসলাম খান ন্যায়ের শাসনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে মোট ভোটার ৩,৫৩,১৭৪ জন (পুরুষ: ১,৭৬,৬৭০; নারী: ১,৭৬,৪৯৯; হিজড়া: ৫)। ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ‘পুঠিয়া রাজবাড়ী পর্যটন কেন্দ্র হতে পারতো, কিন্তু অবহেলায় তা পড়ে আছে। এখানে শিল্পায়ন হলে আমাদের সন্তানদের কাজের জন্য ঢাকা ছুটতে হতো না।‘ ভ্যান চালক রহিম উদ্দিন নিরাপদ সড়ক ও পরিকল্পিত বাস টার্মিনালের দাবি জানান।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘পুঠিয়া রাজবাড়ী কেন্দ্রিক একটি আধুনিক পর্যটন হাব এবং এই অঞ্চলে আম ও কলার প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বিশাল শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে যাতে স্থানীয় হাজারো তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়। জামায়াতের প্রার্থী মনজুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করে এলাকার দীর্ঘদিনের অভিশাপ জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সংস্থান করব।‘ স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও রেজাউল করিম বেকারত্ব দূরীকরণের অঙ্গীকার নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে মোট ভোটার ৩,৫৭,০৫৪ জন (পুরুষ: ১,৭৮,০৬৮; নারী: ১,৭৮,৯৮৪; হিজড়া: ২)। চাকরিজীবী আমিনুল হক বলেন, ‘দুর্নীতিই এ জনপদের প্রধান সমস্যা। চারঘাট-বাঘার প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।‘ শ্রমিক আব্দুল সালাম বলেন, ‘পদ্মার বালু মহাল নিয়ে রাজনীতি বন্ধ হোক। আমরা চাই সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা।‘ এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ তার বক্তব্যে ঘোষণা দেন, ‘নদী ভাঙন রোধে পদ্মা পাড়ে স্থায়ী ও শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ এবং খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। শহীদ জিয়ার আদর্শে প্রতিটি ঘরে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিয়ে এই জনপদকে আধুনিক মডেলে রূপান্তর করা হবে।

জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ‘দুর্নীতিই এ দেশের প্রধান বাধা। আমি নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত একটি আদর্শিক ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করব। চারঘাট-বাঘাকে একটি আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।‘ জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলনের আবদুস সালাম সুরুজ জনগণের প্রকৃত সেবক হওয়ার সুযোগ চেয়েছেন।

রাজশাহীর ৩০ জন প্রার্থী এখন ব্যালট যুদ্ধে অবতীর্ণ এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে নির্ধারিত হবে শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের বড় বড় প্রতিশ্রুতি জয়ী হয় নাকি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার সমীকরণ।

ট্যাগ:ঢাকারাজশাহীসদরতানোরপবাবেগম নিচে সাধারণ মানুষেরমো. শাহজাহানডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরডা. সামছুল আলমঅধ্যাপক আবুল কালাম আজাদডা. আব্দুল বারী সরদারখান ন্যায়ের শাসনের দৃঢ়আসনে মোট ভোটার

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!